শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
টাকা, ট্রফি আর তারকারা—পিএসএলে লাহোরের মহাতাণ্ডব!
অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ২০২৫-এর শিরোপা জিতে বিশাল অর্থ পুরস্কারের মালিক হয়েছে লাহোর কালান্দার্স। রোববার রাতের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে জমজমাট ফাইনালে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসকে ৪ বল হাতে রেখেই হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় পিএসএল ট্রফি ঘরে তোলে তারা।
ট্রফির পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স পেয়েছে ৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ কোটি। অন্যদিকে, রানার্স-আপ কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস পেয়েছে ২ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
তবে দলগত কৃতিত্বের বাইরেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন একাধিক ক্রিকেটার।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন কোয়েটার উদীয়মান ডানহাতি ব্যাটার হাসান নেওয়াজ। ৩৯৯ রান করে হয়েছেন পিএসএল ২০২৫-এর সেরা খেলোয়াড়। এর স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ৩০ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং উপহার হিসেবে বিলাসবহুল বিওয়াইডি সিল মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি।
তবে এখানেই থেমে থাকেনি তার অর্জন। সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কারও গেছে তার ঝুলিতে, যার পুরস্কারমূল্য আরও ৩৫ লাখ রুপি। অর্থাৎ ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ আর্থিক পুরস্কার জয় করেছেন এই প্রতিভাবান ব্যাটার।
চ্যাম্পিয়ন লাহোরের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি হয়েছেন টুর্নামেন্টসেরা বোলার; তিনিও পেয়েছেন ৩৫ লাখ রুপি। একই অঙ্কের পুরস্কার জিতেছেন ফাইনালে ব্যাটে-বলে দ্যুতি ছড়ানো সিকান্দার রাজা, যিনি হয়েছেন সেরা অলরাউন্ডার।
সেরা ফিল্ডার নির্বাচিত হয়েছেন লাহোরেরই আবদুস সামাদ, সেরা উইকেটকিপার মোহাম্মদ হারিস এবং উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তরুণ ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। তিনজনই পেয়েছেন ৩৫ লাখ রুপি করে।
কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ২০১ রান। জবাবে লাহোর কালান্দার্স জয় নিশ্চিত করে ইনিংসের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে।
ম্যাচে কুসল পেরেরা অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে, আর সিকান্দার রাজা ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে পৌঁছে দেন বিজয়ে। লাহোরের হয়ে বাংলাদেশের তরুণ লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন শিকার করেন একটি উইকেট। তবে দলে থাকা অন্য দুই বাংলাদেশি—সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন না একাদশে।
এই জয়ে পিএসএল-এ তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো লাহোর কালান্দার্স। আগে কেবল ইসলামাবাদ ইউনাইটেডই তিনবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছিল।
ম্যাচ শেষে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ছিল চোখধাঁধানো উদযাপন। হাজারো দর্শকের সামনে শিরোপা হাতে তুলে নেন অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। এই জয়ে লাহোর যেন আবারও জানান দিল, তারা কেবল দল নয়—একটি চ্যাম্পিয়ন মেশিন। গণমাধ্যম বলছে, এবারের পিএসএল ছিল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর আসর।